এই ব্লগে সন্ধান করুন

শনিবার, ১৩ মে, ২০১৭

কোন দলিলে কত টাকার স্ট্যাম্প

দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়ে দলিল করতে হয়। দলিলের বিষয়ের ওপর নির্ভর করে স্ট্যাম্পের মূল্যমান বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে দলিল সম্পাদনের জন্য স্ট্যাম্পের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে পুরনো মূল্যের স্ট্যাম্প দিয়ে দলিল লেখা হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে ও কোনো রকম আইনগত ভিত্তি থাকবে না। কোন দলিলে কত টাকার স্ট্যাম্প ব্যবহার করতে হবে তা তুলে ধরা হলো:
রাজউকের প্লট ও ট্যাক্সের দলিলের জন্য মোট মূল্যের ওপর ২ শতাংশ টাকার সমমানের স্ট্যাম্প;
ট্রাস্ট ডিড ক্যাপিটাল দলিলের মূল্যের ওপর ২ শতাংশ টাকার সমমানের স্ট্যাম্প;
অছিয়তনামার কপির জন্য ৩০ টাকার স্ট্যাম্প;
নকলের কবলা, বন্ড, বণ্টননামা, সার্টিফায়েড কপির দলিলের জন্য ৫০ টাকার স্ট্যাম্প;
অনুলিপি, খাস-মোক্তারনামা দলিলের জন্য ১০০ টাকার স্ট্যাম্প;
হলফনামা, বায়নার হলফনামা, হেবার ঘোষণাপত্র, না দাবি পত্র, বাতিলকরণ দলিলের জন্য ২০০ টাকার স্ট্যাম্প;
চুক্তিনামা দলিল, অঙ্গীকারনামা, বায়নানামার দলিল, মেমোরেন্ডাম অব অ্যাগ্রিমেন্ট, রিডেম্পশন, সোলেনামা বা আপসনামার দলিলের জন্য ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প;আমমোক্তারনামা দলিল ও সাফকবলা দলিলের জন্য ৪০০ টাকার স্ট্যাম্প;
তালাকের হলফনামার দলিলের জন্য ৫০০ টাকার স্ট্যাম্প;
অংশীদারি দলিলের জন্য ২ হাজার টাকার স্ট্যাম্প;
মর্টগেজ বা বন্ধকের দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে—

ক. ১ টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২ হাজার টাকা;
খ. ২০ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা;
গ. ১ কোটি ১ টাকার ওপরের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকার ও প্রতি লাখের জন্য ২ শতাংশ হারে মোট টাকার মূল্যমানের স্ট্যাম্প লাগবে।
 

আর্থিক লেনদেনের চুক্তিপত্র

 আর্থিক লেনদেনের চুক্তিপত্র, দলিল বা ডকুমেন্টস থাকলে কেউ প্রতারণা করার সাহস পাবে না। প্রত্যেকের মনে রাখা দরকার, অর্থই অনর্থের মূল। এই অর্থের কারণেই বন্ধু, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। অনেক সময় সামান্য টাকার জন্য খুনোখুনির ঘটনাও আমাদের দেশে চোখে পড়ে। কাজেই এখন থেকে প্রতিটি আর্থিক লেনদেনই লিখিত চুক্তির মাধ্যমে হওয়া উচিত…
লেনদেনের লিখিত চুক্তি বা দলিল থাকলে এভাবে কাউকে প্রতারিত হতে হয় না। টাকা-পয়সা লেনদেন করলে বা বাকিতে মাল বিক্রি করলে তা লিখিত দলিলে হওয়া উচিত। তাহলে প্রতারিত হলেও আইনের আশ্রয় নেওয়া যায়। এভাবে টাকা নিয়ে তা আত্দসাৎ করলে বাংলাদেশে প্রচলিত দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা ও ৪০৬ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সহজেই। আদালতে অভিযোগ প্রমাণ করাও সহজ হয়। টাকা ধার নিয়ে বা বাকিতে মাল নিয়ে টাকা পরিশোধ না করা প্রতারণা। আর এই প্রতারণার শাস্তির বিধান রয়েছে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায়। এ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি প্রতারণা করে এবং প্রতারণার কারণে প্রতারিত ব্যক্তিকে কোনো সম্পত্তি দিতে বাধ্য করে তাহলে প্রতারণাকারীকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় প্রকার দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বিশ্বাস ভঙ্গ করে তাহলে তাকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। লেনদেনের দলিল বা ডকুমেন্টস থাকলে কেউ প্রতারণা করার সাহস পাবে না।প্রত্যেকের মনে রাখা দরকার, অর্থই অনর্থের মূল। এই অর্থের কারণেই বন্ধু, আত্দীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। অনেক সময় সামান্য টাকার জন্য খুনোখুনির ঘটনাও আমাদের দেশে চোখে পড়ে। কাজেই এখন থেকে প্রতিটি আর্থিক লেনদেনই লিখিত চুক্তির মাধ্যমে হওয়া উচিত। এই চুক্তিনামা হতে পারে ১৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্টাম্পে। আবার কোনো সাদা কাগজে হলেও চলে। তবে লেনদেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বা উভয় পক্ষের আত্দীয়স্বজনের উপস্থিতিতে হলে ভালো হয়। লিখিত চুক্তিনামায় উপস্থিত ব্যক্তিদের স্বাক্ষর নেওয়া বাঞ্ছনীয়।